August 9, 2026, 10:53 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় গ্রাম পুলিশ গিয়ে ঠেকাল নারীর জমির জবর দখল। আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিরোধীয় জমিতে অনুপ্রবেশ না করতে দ্বিতীয়পক্ষকে বারণ করে বিচারিক আদালত। তবে এ সব না মেনে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জবর দখলকারী চক্র গভীর রাতে জমিতে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় জবর দখল কুমানসে ওই জমিতে ঘেরা বেড়া দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে জমির মালিক গৃহবধূ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন। এমনকি এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চান। ইউপির চেয়ারম্যান ওই স্থানে দ্রæত ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ পৌছান। ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০/১২ জনের দুবৃর্ত্তরা দ্রæত সটকে যান। ১৩ ডিসেম্বর রাত ২ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি কইড়ারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ১০ শতক জমি নিয়ে বনবিভাগে চাকুরীরত কইড়ারপাড়ার বাসিন্দা ফেরদৌস আহমদের স্ত্রী শাহজাহান বেগম ও মৃত বাঁচা মিয়ার পুত্র আবদুল অদুদ গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সুত্র জানান, ওই জমি শাহজাহান বেগম পৈত্রিক অংশ থেকে প্রাপ্ত হন। আবদুল অদুদ ও জমির মালিক শাহজাহান বেগম নিকট আত্মীয়। জমির স্থিতি অবস্থান আবদুল অদুদের বাড়ির নিকটে। এতে করে ওই জমির প্রতি অদুদ গংদের লোলুপ দৃস্টি পড়ে। ওই দিন গভীর রাতে আবদুল অদুদ গং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জমিতে হানা দেয়। এ সময় তারা শাহজাহান বেগমের ভোগ দখলীয় জমিতে জবর দখল কুমানসে রাতেই ঘিরা বেড়া দিচ্ছিলেন। জমি নিয়ে শাহজাহান বেগম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চকরিয়ায় অপর মামলা রুজু করেন। যার নং ১৭৫৬/২১। ওই মামলায় বিচারিক আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। একই বিষয়ে এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এম,আর মামলা রুজু ছিল। গ্রাম পুলিশ আজিজুর রহমান বলেন, মেম্বারসহ গভীর রাতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদেরকে দেখতে পেয়ে তারা পালিয়ে যান। কইড়ারপাড়ার বাসিন্দা জাফর আলম (৮০) বলেন, এ জমি ১৫/২০ দিন আগে অদুদ গং দখল করেছে। সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাসেম বলেন, জমি শাহজাহান বেগমের পৈত্রিক অংশ। আমি মেম্বার থাকাকালীন সময়ে এ বিষয়ে অনেকবার বৈঠক হয়েছিল। শাহজাহান বেগমের স্বামী বনবিভাগের চাকুরীজীবি ফেরদৌস আহমদ বলেন, আবদুল অদুদ খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তিনি একজন জবর দখলবাজ প্রকৃতির লোক। টইটংয়ে অনেক মানুষ তার এমন অত্যাচারের কারনে অতীষ্ঠ হয়েছে। আমার স্ত্রীকে দাদা ৪ কানি জমি দানপত্রমূলে দলিল দিয়েছে। ১০ শতক জমি আবদুল আদুদ গং ঘিরা বেড়া দিয়েছে। তবে মেম্বার ও চৌকিদার গিয়ে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। জমিটির অর্ধেক অংশ ঘিরে ফেলেছে। আবদুল অদুদ গংদের পক্ষে তার ছেলে মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, মৌখিক এওয়াজমূলে আমরা এ জমি ভোগ করছি। শাহজাহান বেগম নামক মহিলা বর্তমানে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তারা আমাদের দালিলিক সম্পত্তির ১০ শতক সেখানে ভোগ করছে। আমরা করছি আমাদের নিকট উনার ১০ শতক জমি। টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জমিটির প্রকৃত মালিক ফেরদৌসের স্ত্রী শাহজাহান বেগম। আমি কিন্তু অনেকবার নিষেধ করেছি। আইন না মানলে আমি কি করতে পারি, আপনারা বলুন।